“প্রচারেই প্রসার” এই প্রবাদ বাক্যটির সবচেয়ে পরীক্ষিত ও ফলিত ক্ষেত্র হলো যে কোন নতুন অথবা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা। একজন উদ্যোক্তা অবশ্যই জানেন, একটি ভালো প্রচার ও বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা ব্যবসার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি ভাল প্রচার ব্যবস্থা শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও নতুন শ্রোতা তৈরিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। সাধারণত ব্যবসার প্রচার ও প্রসারের জন্য উদ্যোক্তারা বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোর শরণাপন্ন হয় এবং অর্থের বিনিময়ে প্রচার লাভ করেন। কিন্তু এটা জরুরী নয় যে, বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোই সবসময় ব্যবসার প্রচার ও প্রসারের কার্যকর ধারণাগুলো প্রদান করে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা নিজেই ব্যবসার প্রচারক হিসেবে কাজ করতে পারে।

Source: cnbc.com

থিওডোর রুজভেল্টের একটি বিখ্যাত উক্তি হলো

“আপনি কতটা জানেন সে ব্যাপারে কেউ গুরুত্ব দেবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা না জানে আপনার কাছে তারা কতটা গুরুত্বপূর্ণ”।

ব্যবসাসহ জীবনের অনেক ক্ষেত্রে উক্তিটি সত্য। একজন উদ্যোক্তা যদি নিজেই ব্যবসার প্রচারক হিসেবে কাজ শুরু করেন তাহলে, উদ্যোক্তা ও শ্রোতার মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি হয়। এভাবেই একজন উদ্যোক্তা কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই ধীরে ধীরে শ্রোতা আস্থা ও বিশ্বস্ততা অর্জনে সক্ষম হন।

যে পাঁচটি পন্থা অনুসরণ করলে একজন উদ্যোক্তা নিজেকেই নিজের ব্যবসার প্রচারক হিসেবে গড়ে তুলতে পাড়েন তা হলো:

. প্রচারের মূল ধারণা: প্রচারক হিসেবে একজন উদ্যোক্তার প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করা। সাক্ষাৎকারে যেসব বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হবে সেসব বিষয়গুলো আগে থেকেই ক্রমানুসারে সাজিয়ে একটি গল্পাকারে প্রকাশ করা উদ্যোক্তার জন্য দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

Source: borehammedia.co.uk

সাক্ষাৎকারের মঞ্চ যখন প্রস্তুত হবে, তার আগে উদ্যোক্তা আলোচ্য বিষয়গুলো একটি সাদা কাগজে লিখে নিতে পারেন তার নিজের সুবিধার জন্য। উদ্যোক্তা আলোচনা শুরু করতে পারেন কোন সাধারণ অথচ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে এবং ক্রমানুসারে অগ্রসর হতে পারেন নির্ধারিত বিষয়গুলোর দিকে। নির্ধারিত বিষয়গুলো আলোচনার সময় উদ্যোক্তাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, আলোচনা যেন খুব বেশি বিস্তারিত না হয় এবং অল্প কথায় মূল বক্তব্য প্রকাশ পায়।

উদ্যোক্তা যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারেন তা হলো:

১. সাম্প্রতিক আলোচ্য ঘটনাসমূহ।

২. এমন কোন পরামর্শ যা উদ্যোক্তার মতে ব্যবসার শুরুতে পেলে ভালো হতো।

৩. ব্যবসার উল্লেখযোগ্য সাফল্যসমূহ।

৪. ব্যবসার প্রসারের জন্য বর্তমানে উদ্যোক্তা তার পরামর্শদাতাদের সাথে যেসব ব্যাপারে আলোচনা করছেন।

৫ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা উদ্যোক্তাকে ভাবিয়ে তুলছে।

২.অভিজ্ঞতা: এ পর্যায়ে এসে উদ্যোক্তা নিজের অতীত ও বর্তমান অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে পারেন। ব্যক্তিজীবন ও ব্যবসায় তার যত অর্জন এবং সাফল্য আছে, সেসব নিয়ে বলতে পারেন। উদ্যোক্তা যদি ব্যবসায় নতুন হন এবং ব্যবসা শুরুর পূর্বে যদি কোথাও কর্মরত ছিলেন, সে ব্যাপারেও বলতে পারেন। মোট কথা তার উদ্যোক্তা হয়ে উঠা পর্যন্ত তার জীবনের সব উত্থান পতন নিয়ে কথা বলতে পারেন।  এছাড়াও উদ্যোক্তা যদি কোন সম্মানজনক পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়ে থাকেন অথবা কোন কিছু উদ্ভাবন করে থাকেন সে ব্যাপারেও আলোকপাত করতে পারেন।

Source: ntrepreneur.com

৩. কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার প্রভাব: উদ্যোক্তা এ পর্যায়ে তার পূর্বের কর্মক্ষেত্র এবং ব্যবসা থেকে লব্ধ অভিজ্ঞতা ও নির্ধারিত আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটাতে পারেন। নির্ধারিত বিষয়গুলোর মধ্যে যে বিষয়গুলোর সাথে তার লব্ধ অভিজ্ঞতা মিলে যায় সেসব ব্যাপারে আলোচনা করতে পারেন। এ পর্যায়ে উদ্যোক্তা শ্রোতাদের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারেন তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার উপর আলোকপাতের মাধ্যমে ।

৪. উপাত্ত সম্বলিত বিষয়বস্তু: আলোচনার নির্ধারিত বিষয়গুলো যদি উপাত্ত সম্বলিত হয়, তবে তা উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা ও ধারণার মধ্যে প্রত্যক্ষ সংযোগ ঘটায়। উপাত্ত সম্বলিত আলোচনা উদ্যোক্তাকে শ্রোতাদের কাছে আরো গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। উপাত্ত সম্বলিত আলোচনা শ্রোতাদের  কাছে উদ্যোক্তার অবস্থানকে দৃঢ় করে। ব্যক্তিজীবনে উদ্যোক্তার যদি কোন অর্জন থাকে অথবা পুরস্কৃত হন, তা উল্লেখ করতে পারেন। কারণ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানের প্রযোজক এবং পরিচালকের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে উদ্যোক্তা নির্ধারিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য যোগ্য ব্যক্তি কি না। উদ্যোক্তা আলোচনা চলাকালীন তার অবস্থান দৃঢ় করার জন্য যে উপাত্ত ব্যবহার করবেন তা অবশ্যই কোন নির্ভরযোগ্য মাধ্যম থেকে সংগৃহীত হতে হবে।

Source: 123rf.com

৫. আলোচনার মূল উদ্দেশ্যসমুহ: আলোচনার এ পর্যায়ে এসে উদ্যোক্তা তার মূল উদ্দেশ্য, প্রচারের দিকে অগ্রসর হবেন। উপরোক্ত চারটি ধাপে যেসব বিষয়গুলো নিয়ে বলা হয়েছে সেসব বিষয়গুলোকে এমন পরিনতির দিকে ধাবিত করবেন যা তার মূল উদ্দেশ্য প্রচারকে ইঙ্গিত করে। প্রচারের ব্যাপারে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো কি পদ্ধতি অথবা কৌশল অবলম্বন করছে সে ব্যাপারে উদ্যোক্তা কিছু গবেষণা করতে পারেন। গবেষণার পর যে প্রচার পদ্ধতি উদ্যোক্তার কাছে উপযুক্ত মনে হবে, সেই পদ্ধতিকে কিছু মাত্রায় রূপান্তর করে অনুসরণ করতে পারেন।

Source: colourbox.com

এছাড়াও উদ্যোক্তাকে জানতে হবে কোন বিষয়গুলো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া জাগাচ্ছে এবং প্রচারের কোন পদ্ধতি অনুসরণ করলে তা শ্রোতাদের নিকট অধিক গ্রহণযোগ্য হবে। মোট কথা উদ্যোক্তাকে এমন একটি প্রাসঙ্গিক ও বিষয়ভিত্তিক প্রচার পদ্ধতি অবলম্বন কতে হবে যা শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষনের পাশাপাশি অনুষ্ঠান প্রযোজক ও পরিচালকের সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন করবে।

এভাবেই একজন উদ্যোক্তা যথাযথ উপাত্ত প্রদানের মাধ্যমে তার প্রচার ধারণা ও লব্ধ অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ ঘটাতে পারেন এবং নিজেকে প্রচারক হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।

Featured Image: entrepreneur.com

Leave a comment